পূর্বধলা-ঘাগড়া সড়কের বেহাল দশা! জনদুর্ভোগ চরমে - web.purbakantho

শিরোনাম :

পূর্বধলা-ঘাগড়া সড়কের বেহাল দশা! জনদুর্ভোগ চরমে

শফিকুল আলম শাহীন : পুরো সড়কের কার্পেটিং উঠে গেছে। দুই পাশে এপ্রোচের মাটি সরে গিয়ে সড়কে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ভেঙ্গে গিয়েছে সড়কের পুকুরের পাশের পেলাসেটিং। ১৫ কিলোমিটার সড়কের স্থানে স্থানে ধেবে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে গর্তের। এমন অবস্থায় সড়কটি দিয়ে যানবাহনসহ পথচারিদের চলাচলে পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। 

এ চিত্রটি নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলার পূর্বধলা-ঘাগড়া সড়কের সড়কটি দ্রæত সংস্কারের দাবী স্থানীয়দের।

পূর্বধলা উপজেলা সদর থেকে ঘাগড়া ইউনিয়নের ঘাগড়া বাজার পর্যন্ত এ সড়কটি খুবই জনগুরুত্বপূর্ন সড়ক। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন পাশ্ববর্তী ধোবাউড়া উপজেলার লোকজনসহ পূর্বধলা উপজেলার ১৫ থেকে ১৬টি গ্রামের সাধারণ মানুষ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার লোকজন উপজেলা সদরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করেন। 

সড়কের আশে পাশে রয়েছে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও একাধিক বাজার। এ সড়ক দিয়ে এক সময় ঘাগড়া হতে রাজধানী ঢাকা পর্যন্ত সরাসরি বাস চলাচল করলেও বর্তমানে সড়কের ভগ্নদশার কারনে তা বন্ধ হয়ে গেছে। একই কারনে সিএনজি ও মাহিদ্র পরিবহনগুলোও বন্ধ রয়েছে।

সরে জমিনে দেখা গেছে পুরু সড়কের কার্পেটিং উঠে গেছে। সড়কের কালডোয়ার, কুমারখালী ও দুধী এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে মাটি ধেবে গেছে। হাটধলা সুনিল মার্কেট এবং মেঘশিমুলসহ বিভিন্ন জায়গায় সড়কে ছোট বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। মেঘশিমুল ব্রিজ সংলগ্ন  ও দুধি এলাকায় সড়কের দুপাশের এপ্রোচের মাটি সরে গিয়ে ভাংগন সৃষ্টি হয়ে মরন ফাঁদে পরিনত হয়েছে। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাছাড়া সড়কটি মাত্র ১০ফুট প্রশস্ত হওয়ায় বড় বাস বা ট্রাক মুখোমুখি হলে একে অপরকে সাইড দিতে পারে না। 



এ সড়কে নিয়মিত বেটারী চালিত অটোরিকশা চালক বিজয় চন্দ্র দে জানান, সড়কটির ভগ্নদশার কারনে গাড়ী চালাতে খুবই কষ্ট হয়। কয়দিন পরপর অটো নষ্ট হয়ে যায়। সময় বেশি লাগার কারনে অধিকাংশ যাত্রী অটোতে না উঠে মোটরসাইকেলে আনাগোনা করেন। 

ঘাগড়া দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মোতালিব জানান, ঘাগড়া থেকে পূর্বধলা উপজেলা সদর পর্যন্ত এই সড়কটি গুরুত্বপুর্ণ সড়ক। প্রতিদিন হাজারো মানুষ বিভিন্ন প্রয়োজনে উপজেলা সদরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন। বর্তমানে সড়কটির ভগ্নদশার কারনে পাহাতে হচ্ছে দুর্ভোগ। সড়কটির প্রশস্ততা বাড়িয়ে যেন দ্রæত সংস্কার করা হয় এমন দাবী তাদের ।


পূর্বধলা এলজিইডি অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. শাওন আহমেদ জানান, পূর্বধলা থেকে ঘাগড়া পর্যন্ত সড়কটির দুই পাশে প্রচুর গাছ রয়েছে। আর এই গাছগুলি সড়কটির প্রসস্থতা করার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর পরেও দুই পাশে ১ফুট করে ২ফুট বৃদ্ধি করে সড়কটি সংস্কারের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। আরসিআইপি প্রজেক্ট এর আওতায় সারাদেশে ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে এই কাজটি বাস্তবায়ন হতে পারে। প্রসস্থতার ক্ষেত্রে তিনি আরো বলেন, ১২ফুটের বেশি প্রসস্ত করতে হলে জমি অধিগ্রহন করতে হবে যা সম্ভব নয়। আবার সড়কের সব গাছ কাটতে হলে বন বিভাগ থেকে অনুমতি পাওয়াও দুষ্কর। 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন